বিশ্বব্যাপী ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষেও শস্য উৎপাদন রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে। সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ সময় মোট উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২৪১ কোটি ২০ লাখ টনে। ফলে এ সময় বাজারে মোট শস্যের সরবরাহ প্রথমবারের মতো ৩০০ কোটি টন ছাড়াবে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।
ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মাসভিত্তিক ‘গ্রেইন মার্কেট রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাই বাদে সব ধরনের শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। বছরে গড়ে শস্য উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টন বা ৪ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি আগের মাসে দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে ৮০ লাখ টন বেশি।
আইজিসি বলছে, কম মজুদ থাকা সত্ত্বেও এ রেকর্ড উৎপাদনের কারণে বিশ্বব্যাপী মোট শস্য সরবরাহ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৩০০ কোটি টন ছাড়াতে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন ৮১ কোটি ৯০ লাখ টন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি। এটি আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে গম উৎপাদন বাড়বে মূলত অনুকূল আবহাওয়ার কারণে। রাশিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রধান উৎপাদন অঞ্চলে ভালো আবহাওয়া ফলনের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও মূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল থাকায় আবাদ বেড়েছে। উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে হেক্টরপ্রতি উৎপাদনও বাড়ছে।
২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে ভুট্টার উৎপাদন বেড়ে ১২৯ কোটি ৭০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এটি ২০২৪-২৫ বিপণন বর্ষের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি।
ভুট্টার মজুদ বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মোট শস্যের মজুদকে ৬০ কোটি ৬০ লাখ টনে উন্নীত করবে। এটি আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি হলেও গত পাঁচ বছরের গড়ের চেয়ে কিছুটা কম। এ সময় শস্যের আন্তর্জাতিক আমদানি-রফতানি ৪৩ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ কোটি ৫০ লাখ টন বেশি। এ পূর্বাভাস বাস্তবায়ন হলে এটি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হবে।
বিশ্বব্যাপী সয়াবিন উৎপাদন ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে প্রায় স্থিতিশীল থেকে ৪২ কোটি ৯০ লাখ টনে দাঁড়াবে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আমেরিকায় বাড়তি উৎপাদন বিশ্ববাজারে অন্য অঞ্চলের ঘাটতি সামাল দিতে পারে।
সয়াবিনের ব্যবহার বছরে ৩ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশুখাদ্য, খাদ্য ও শিল্প খাতে প্রক্রিয়াজাত চাহিদা বৃদ্ধি মোট ব্যবহার বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখবে। তবে এ সময় মজুদ কিছুটা কমে আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সয়াবিন কেনাবেচার পরিমাণ ১৮ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।
২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে আইজিসি বিশ্বব্যাপী ৫৪ কোটি ৪০ লাখ টন চাল উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে। চালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বছরে ২ শতাংশ বাড়তে পারে, যেখানে ভারতের হিস্যা থাকবে ৪০ শতাংশ।
এদিকে আইজিসি গ্রেইনস অ্যান্ড অয়েলসিডস সূচক মাসভিত্তিতে স্থিতিশীল থাকলেও গত বছরের তুলনায় গড়ে ৪ শতাংশ কমেছে।